স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়ালটনের শো-রুম থেকে একটি ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কার পেয়েছেন শিক্ষক নেতা মোঃ মনির হোসেন (৫৫)। ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ২০২১-সিজন-১১ এ দেয়া “মিলিয়নিয়ার ও অসংখ্য লাখপতি” শীর্ষক সুবিধার আওতায় তিনি ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ১২ টায় স্থানীয় নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষক মনির হোসেনের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মোঃ এমরানুল ইসলাম।

বিজয়ী মোঃ মনির হোসেন পৌর এলাকার কাজীপাড়ার বাসিন্দা ও পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
ওয়ালটনের ডেপুটি সিইউ প্লাজা ট্রেড আবুল কালাম আজাদ মিঠুর সভাপতিত্বে চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক প্রভাষক শাহাদাত হোসেন, রাইজিংবিডির জেলা প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন রুবেল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়ালটনের ন্যাশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার প্লাজা সেল্স এন্ড ডেভলপয়েন্ট নরসিংদীর হুমায়ূন কবির খাঁন হিমু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দেওয়ান হাফিজ, সদর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক আবু কাউছার প্রমুখ।

অনুভূতি ব্যক্ত করেন ১০ লাখ টাকা বিজয়ী মোঃ মনির হোসেন। তিনি বলেন, মাত্র ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছি। জীবনে এই প্রথম একটা পুরষ্কার পেলাম। একটা ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেয়েছি, ভাবতেও অবাক লাগে। তিনি ক্রেতাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করায় ওয়ালটনকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কার পেয়েছেন শিক্ষক মনির হোসেন


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাসের শ্রমিক, ঋষি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ১ হাজার মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০কেজি করে চাল, ১ লিটার তেল, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি চিনি, এক প্যাকেট সেমাই, ২০০ গ্রাম দুধ, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পেয়াজ, ১ প্যাকেট নুডুলস ও দুটি সাবান।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সস্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, এই খাদ্য সামগ্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষের জন্য এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটি আপনাদের অধিকার।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য ত্রাণ গ্রহীতাদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, করোনা মহামারিকালে পুরো বিশ্বে একধরনের অস্বস্থির অবস্থায় রয়েছে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি মাস্ক পরিধান করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে যারা পশুর হাটে যাবেন তারা অবশ্যই সরকারি নির্দেশনা মেনে বাজারে যাবেন। তিনি কোরবানীর পশুর চামড়া কওমি মাদরাসায় দান না করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ দৌলা খাঁন বলেন, করোনাকালে অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যাদের খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজন তারা প্রয়োজন ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১৭ হাজার ৫৯৯ জন অসহায় ও দুঃস্থদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ চন্দন কুমার পোদ্দার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোঃ ছোয়াব আহমেদ হৃতুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোর্কণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নাসিরনগর থানার এস.আই আরিফুর রহমান সরকার, উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সামাদ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণ, ইউপি সচিব প্রমুখ।

পর্যায়ক্রমে গোর্কণ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৭৫০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

নাসিরনগরে অসহায় ও দুঃস্থদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণের উদ্বোধন


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেক স্ল্যাব সংস্কার কাজ করার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

এতে করে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও (বুধবার) যানবাহনের চাপের কারনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট ছিলো। যানজট নিরসনে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে থানার পুলিশ। দিনরাত কাজ করতে গিয়ে তারা হিমসিম খাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেক স্ল্যাবের সংস্কার কাজ চলছে। সংস্কার কাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলো লাঙ্গলবন্দ সেতুর একপাশ দিয়ে চলাচল করে। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত লাঙ্গলবন্দ সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সড়ক বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পথ হিসেবে হালকা যানবাহনগুলোকে মুগদাপাড়া-কাইকারটেক ব্রীজ- নবীগঞ্জ-মদনপুর সড়ক দিয়ে এবং ভারী যানবাহনগুলোকে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এতে করে তীব্র যানজটের কারনে শতশত যানবাহনের চালকেরা পণ্যনিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বুধবার সকাল থেকেই কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই যানজটে আটকা পড়েছে পন্যবাহী ট্রাক, কন্টেইনার, কাভার্ডভ্যানসহ শতশত যানবাহন। ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা জানান, তারা যানজট নিরসনে কাজ করছেন। তবে সেতুটি মেরামতের কাজ শেষ হলে এই যানজট আর থাকবে না।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী গার্মেন্টস পণ্যবাহি লরি চালক টুটুল আহমেদ জানান, তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১২ ঘন্টাপর তিনি বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌছেছেন। গন্তব্যে যে কখন পৌছবেন তা তিনি জানেনা না।

রাজশাহী থেকে আম নিয়ে চট্টগ্রামগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক চালক স্বরজিৎ দাস জানান, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী থেকে আম নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি। বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌছেছি। তিনি বলেন, ৪ ঘন্টার মধ্যে আমি চট্টগ্রামে আম খালাস করে ফেরার কথা অথচ আমি এখনো চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৩শ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছি। গাড়ির ভেতরে আমগুলোর কি অবস্থা জানতে পারিনি। যথাসময়ে আম আনলোড না করতে পারলে পঁচে যাবে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া কাভার্ড ভ্যান চালক সালাম মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মালামাল নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে রওয়ানা দিয়েছি। যানজটের কারনে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা এলাকায় পৌছেছি। আজকের মধ্যে মাল নিয়ে চট্টগ্রাম পৌছাতে পারব কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, নায়ায়নগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতুর স্ল্যাবের সংস্কার কাজ চলার কারনে বিকল্প সড়ক কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে রাতদিন আমরা কাজ করছি। আমাদেরকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবে লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রী ভোগান্তি কম। তিনি বলেন, বুধবার বিকেল ৩টায় ব্রীজের সংস্কার কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল আলম বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু মেরামতের কারনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ভারী গাড়ির চাপ বেড়েছে। যানজট নিরসনে সদর উপজেলার ঘাটুরা থেকে কসবা উপজেলার কালামুড়ি, সদর উপজেলার নন্দনপুর, বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের ৫টি দল কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ৫০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলার ৫৫৮টি মসজিদের ইমামদের সাথে মতবিনিময় করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বুধবার দুপুরে কসবা টি.আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইমামদের সাথে মত বিনিময় করেন আইনমন্ত্রী।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়কালে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি ইমামদেরকে করোনা মহামারি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে মহান আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি থেকে মানুষকে সচেতন ও রক্ষা করতে প্রতিটি মসজিদের ইমামগণদের দায়িত্ব অপরিসীম। তিনি করোনা পরিস্থিতিতে জনগণকে অহেতুক ঘর থেকে বের না হওয়ার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম, পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এমজি হাক্কানীসহ উপজেলার শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ প্রমুখ।

কসবায় ইমামদের সাথে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময়


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১৮২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিভিল সার্জন ডাঃ একরামউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার এক পুরুষ-(৭৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এনিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৩০ টি নমুনা পরীক্ষায় করে ১৮২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। নতুন সনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ জন, কসবা উপজেলায় ৩৭ জন, সরাইল উপজেলায় ১ জন, আশুগঞ্জ উপজেলায় ৭জন, নাসিরনগর উপজেলায় ৩ জন, বিজয়নগর উপজেলায় ৪জন, নবীনগর উপজেলায় ৬০ ও বাঞ্চারামপুর উপজেলায় ২৫ জন রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৫১১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩৯৩১ জন করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ্য হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসে ১ জনের মৃত্যু ॥ নতুন সনাক্ত ১৮২ জন


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
করোনা পরিস্থিতিতে সচেতনতামূলক মাইকিং ও মাস্ক বিতরণ করা আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা শিশু রুদ্রজিৎ পালের জন্মদিনে ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার রুদ্রপালের অষ্টম জন্মদিন উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসহায়তা ও নগদ টাকা দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবুর প্রথম সন্তান রুদ্রজিৎ পাল। স্থানীয় মেধা বিকাশ প্রি ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী রুদ্রপাল গত বছর করোনাকালীন সময়ে নিজেই দিনভর আখাউড়া পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে মাইকিংয়ের পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ব্যাপক প্রশসংসা পায় ও শুভেচ্ছা পুরষ্কারেও ভূষিত হয় রুদ্র।

রুদ্র পালের বাবা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে এ বছর রুদ্র’র জন্মদিন একেবারে ঘরোয়াভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ব্যাপকভাবে জন্মদিন না পালন না করে ওই টাকায় বুধবার রুদ্রের অষ্টম জন্মদিনে পাঁচজন দরিদ্রকে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, পেঁপে উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে নগদ টাকা দেয়া হয়।

আখাউড়ায় কর্মহীনদেরকে সহায়তা


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সামাজিক ও মানবিক সংগঠন “স্বপ্ন আকাশ ছোয়া” এর উদ্যোগে অর্ধশতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুর মধ্যে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে কলেজ শিক্ষার্থী স্বর্ণালী আক্তারের অর্থায়নে পৌর এলাকার উত্তর পৈরতলা শহীদ কাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো পোলাওর চাল, চিনি, পিয়াজ, তেল, সেমাই, নুডলস ও দুধ।

খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ আজহার উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও “স্বপ্ন আকাশ ছোয়ার” চেয়ারম্যান স্বর্ণালী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা আরেফিন হৃদয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাঃ আল-ইমরান।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা অর্ধশতাধিক পথশিশুর হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধশতাধিক শিশুর মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর মাঝামাঝি অবস্থিত লাঙ্গলবন্ধ সেতুর ক্ষতিগ্রস্থ ডেক-স্ল্যাব মেরামত কাজ করার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফলে যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। এতে করে মঙ্গলবার দিনব্যাপী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর মাঝামাঝি অবস্থিত লাঙ্গলবন্ধ সেতুর ক্ষতিগ্রস্থ ডেক-স্ল্যাব মেরামত কাজ করার চলছে। এ জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যানবাহনগুলোকে শুধু সেতুর একপাশ দিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে বুধবার (১৪ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত লাঙ্গলবন্ধ সেতুর উপর দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

এ অবস্থায় সড়ক বিভাগ থেকে বিকল্প পথ হিসেবে হালকা যানবাহনগুলোকে মোগড়াপাড়া-কাইকারটেক ব্রিজ-নবীগঞ্জ-মদনপুর সড়ক এবং ভারী যানবাহনগুলোকে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এতে করে মঙ্গলবার দিনব্যাপী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে তীব্র যানজটের কারণে শতশত যানবাহনের চালকেরা পন্য নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পন্যবাহি ট্রাক চালক মাহাবুবুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাব কিন্তু নারায়নগঞ্জ এলাকায় ব্রীজে কাজ চলার কারণে সেই সড়কটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সড়ক দিয়ে এসেছি। সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডে যানজটে পরেছিলাম। দীর্ঘ ৮ ঘন্টায় মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ পার হয়েছি। কখন যে চট্টগ্রামে পৌছাব তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

কার্গো ভ্যাসেলের (১২ চাকার ট্রাক) চালক রাজন হাসান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডে পৌছি, বিকাল ৫টায় আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর অতিক্রম করছি। প্রায় ৮ ঘন্টায় মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছি।  বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়কটি অনেকটা সংকোচিত। সরকারের এনিয়ে ভাবা উচিৎ। সড়কটি প্রশস্ত হলে আমাদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পরে থাকতে হতো না।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম বলেন, নারায়নগঞ্জ জেলার লাঙ্গলবন্ধ সেতুর ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর ডেক স্ল্যাব মেরামত করা হচ্ছে। যার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

তিনি বলেন, তবে লকডাউনের কারণে যাত্রীবাহী বাসসহ গণ পরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রী ভোগান্তি তেমন নেই। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে হালকা যানবাহন বিশেষ করে প্রাইভেটকার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকসার যাত্রীরা যানজটে পরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বুধবার বিকেল ৩টার পর ব্রীজের মেরামত কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কোপা আমেরিকার ফুটবলের ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। খেলা শেষে জেলা সদরসহ কয়েকটি স্থানে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করলে পুলিশী হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে খেলা চলাকালে রাস্তায় পুলিশী কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
রোববার সকালে খেলা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দক্ষিণ মৌড়াইলে আর্জেন্টিনার ২০/২৫জন সমর্থক একটি আনন্দ মিছিল বের করে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ আনন্দ মিছিল থামিয়ে দেয়।

এ ছাড়া খেলা শেষে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার হাসপাতাল রোডে আর্জেন্টিনার ৩০/৩৫ সমর্থক একটি আনন্দ মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলটি বন্ধ করে দেয়। পুলিশের সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে কোথাও খোলা জায়গায় বড় পর্দায়, কোন ক্লাবে বা চায়ের দোকানে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়নি। রোববার বিকেল পৌনে ৫টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খেলা নিয়ে জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সুপার ( অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, রোববার ভোর থেকেই জেলার ১১৬টি বিটে মাঠে ছিলো ৪৫টি মোবাইল টিমসহ প্রায় ১ হাজারের বেশি পুলিশ। কেউ যাতে খেলা নিয়ে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সর্তক ছিলো।

উল্লেখ্য, কোপা আমেরিকার ফুটবল খেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে মাঠে ঘাটে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছিলো বাকযুদ্ধ।

গত ৬ জুলাই (মঙ্গলবার) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল গ্রামে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলায় চার জন আহত হয়। এনিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ে বড় পর্দায় ফাইনাল খেলা দেখা নিষিদ্ধের পাশাপাশি সবধরনের বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি

ফেসবুকে আমরা..