স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাঁর শরীরে কোনো উপসর্গ নেই। তিনি বর্তমানে তাঁর সরকারি বাসভবনের হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করার পর রিপোর্টে তাঁর করোনাভাইরাস পজেটিভ আসে। পরে বিকেলে পিসিআর ল্যাব থেকেও করোনা পজেটিভ রিপোর্টে আসে। এর আগে জেলা প্রশাসকের স্ত্রী ও ছেলে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও ছেলের সাথে নিজের নমুনা দেন জেলা প্রশাসক স্যার। রিপোর্টে জেলা প্রশাসক স্যারের করোনা পজেটিভ আসে। এছাড়া বিকেলে পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টেও করোনা পজেটিভ রিপোর্টে আসে। তিনি বর্তমানে নিজ বাসভবনে হোম আইসোলেশনে আছে।

এদিকে পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাত জেলা জামে মসজিদে জেলা প্রশাসকের করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। জেলায় লক ডাউন কার্যকরে কাজ করা, কর্মহীন মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সহায়তা প্রদান, ভারত থেকে আসাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে আইসোলেশন, কোয়ারিন্টেনসহ যাবতীয় কার্যাবলী তদারকি করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান করোনায় আক্রান্ত


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেক স্ল্যাব সংস্কার কাজ করার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

এতে করে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও (বুধবার) যানবাহনের চাপের কারনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট ছিলো। যানজট নিরসনে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে থানার পুলিশ। দিনরাত কাজ করতে গিয়ে তারা হিমসিম খাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেক স্ল্যাবের সংস্কার কাজ চলছে। সংস্কার কাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলো লাঙ্গলবন্দ সেতুর একপাশ দিয়ে চলাচল করে। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত লাঙ্গলবন্দ সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সড়ক বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পথ হিসেবে হালকা যানবাহনগুলোকে মুগদাপাড়া-কাইকারটেক ব্রীজ- নবীগঞ্জ-মদনপুর সড়ক দিয়ে এবং ভারী যানবাহনগুলোকে কাঁচপুর-ভুলতা-নরসিংদী-ভৈরব ব্রীজ -সরাইল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এতে করে তীব্র যানজটের কারনে শতশত যানবাহনের চালকেরা পণ্যনিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বুধবার সকাল থেকেই কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই যানজটে আটকা পড়েছে পন্যবাহী ট্রাক, কন্টেইনার, কাভার্ডভ্যানসহ শতশত যানবাহন। ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা জানান, তারা যানজট নিরসনে কাজ করছেন। তবে সেতুটি মেরামতের কাজ শেষ হলে এই যানজট আর থাকবে না।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী গার্মেন্টস পণ্যবাহি লরি চালক টুটুল আহমেদ জানান, তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১২ ঘন্টাপর তিনি বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌছেছেন। গন্তব্যে যে কখন পৌছবেন তা তিনি জানেনা না।

রাজশাহী থেকে আম নিয়ে চট্টগ্রামগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক চালক স্বরজিৎ দাস জানান, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী থেকে আম নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি। বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌছেছি। তিনি বলেন, ৪ ঘন্টার মধ্যে আমি চট্টগ্রামে আম খালাস করে ফেরার কথা অথচ আমি এখনো চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৩শ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছি। গাড়ির ভেতরে আমগুলোর কি অবস্থা জানতে পারিনি। যথাসময়ে আম আনলোড না করতে পারলে পঁচে যাবে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া কাভার্ড ভ্যান চালক সালাম মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মালামাল নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে রওয়ানা দিয়েছি। যানজটের কারনে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা এলাকায় পৌছেছি। আজকের মধ্যে মাল নিয়ে চট্টগ্রাম পৌছাতে পারব কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, নায়ায়নগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতুর স্ল্যাবের সংস্কার কাজ চলার কারনে বিকল্প সড়ক কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে রাতদিন আমরা কাজ করছি। আমাদেরকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবে লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রী ভোগান্তি কম। তিনি বলেন, বুধবার বিকেল ৩টায় ব্রীজের সংস্কার কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল আলম বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু মেরামতের কারনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ভারী গাড়ির চাপ বেড়েছে। যানজট নিরসনে সদর উপজেলার ঘাটুরা থেকে কসবা উপজেলার কালামুড়ি, সদর উপজেলার নন্দনপুর, বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের ৫টি দল কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ৫০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

অবশেষে আগামী ১৫ জুন (মঙ্গলবার) থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে শুরু হচ্ছে ট্রেনের যাত্রাবিরতি। মঙ্গলবার থেকে তিনটি মেইল ট্রেন, একটি কমিউটার ট্রেন ও পরদিন বুধবার থেকে একটি আন্তঃনগর ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশান শাখার উপ-পরিচালক (অপারেশন) মোঃ রেজাউল হক স্বাক্ষরিত একটি পত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, সাময়িকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে ‘ডি ক্লাশ’ স্টেশনে রূপান্তর করে ট্রেন চালু করা হচ্ছে।

রেলওয়ের চিঠি থেকে জানা যায়, ১৫ জুন ঢাকা-সিলেট-ঢাকা পথের সুরমা মেইল, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ পথের নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস, আখাউড়া-ঢাকা-আখাউড়া, ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা পথের তিতাস কমিউটার ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে। ১৬ জুন (বুধবার) থেকে যাত্রাবিরতি করবে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেস।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ হেফাজতের তান্ডবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। পরদিন ২৭ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পূর্ব নির্ধারিরত সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে সংস্কার করে পূর্ব নির্ধারিত সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী মঞ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি সংগঠনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে ২০ জুনের মধ্যে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

আগামী মঙ্গলবার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে শুরু হচ্ছে ট্রেনের যাত্রা বিরতি

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের ১৩৭তম জন্মদিন ছিলো গতকাল শুক্রবার। তার জন্মদিনে সরাইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে তিনটি প্রস্তাব করা হযেছে।
প্রস্তাবগুলো হচ্ছে উল্লাসকর দত্তের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সরাইলের কালিকচ্ছে তাঁর পৈত্রিক ভিটায় একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান, নতুন প্রজন্ম যাতে জানতে পারে সেজন্য তার তাঁর কর্মকান্ডকে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা ও প্রতিবছর সরকারি ভাবে তাঁর জন্মদিনে আলোচনা সভার আয়োজন করা।

বিপ্লবী উল্লাস কর দত্তের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায়। ১৮৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। তাঁর পিতা দ্বিজদাস দত্ত ছিলেন সর্বধর্ম সমন্বয় আদর্শের সাধক।  উল্লাসকর দত্ত কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র ছিলেন, এবং পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিদ্যায় ডিগ্রী অর্জন করেন। তবে কলেজে পড়ার সময় ইংরেজ অধ্যাপক রাসেল বাঙালিদের সম্পর্কে কটূক্তি করার দরুন উল্লাসকর তাকে আঘাত করেন, এজন্য উল্লাসকরকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল । এই সময় থেকে তার জীবনে পরিবর্তন আসে। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ১৯০৬ সালের ৭ আগস্ট স্বদেশী আন্দোলন কালে তিনি অনুশীলন দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এ সূত্রে ক্ষুদিরাম বসু ও বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এর সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল।

উল্লাসকর দত্ত তখন ‘অভিরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তাঁর তৈরি বোমা ছুড়েই ক্ষুদিরাম ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে বহনকারী গাডিড় ভেবে ভুল করে দুজন ইংরেজ মহিলাকে হত্যা করেছিলেন। এ অপরাধে ২ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ উল্লাসকরকে মুরারিপুকুর বাগান থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিনই মোজাফফরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইংরেজ ব্যারিস্টার কেনেডি সস্ত্রীক নিহত হন। এ সকল ঘটনা ইংরেজ মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে কয়েক দিনের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ কলকাতার মানিকতলায় বোমা তৈরির গোপন কারখানাটি খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রমাণিত হয় যে, ৩০ এপ্রিল ক্ষুদিরাম কর্তৃক নিক্ষিপ্ত বোমাটি ছিল উল্লাস করের তৈরী।

বিচারে ক্ষুদিরাম ও বারীন্দ্রকুমার ঘোষের সঙ্গে মানিকতলা (আলীপুর) বোমা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লাসকরকেও মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তবে ১১ আগস্ট ক্ষুদিরামের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হলে উল্লাসকর তাঁর আইনজীবী চিত্তরঞ্জন দাশ-এর বিজ্ঞতায় অব্যাহতি পান ও ১৯০৯ সালে বারীন ঘোষের সঙ্গে তিনি আন্দামানে দ্বীপান্তরিত হন। ১৯২০ সালে তিনি মুক্তিলাভ করেন।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলে জন্মভূমি কালীকচ্ছের বাঘবাড়িতে উল্লাসকর ফিরে আসেন। দীর্ঘ দশবছর নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করার পর জীবনের শেষ দিনগুলি নিজেদের আখড়ায় কাটানোর বাসনায় তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১৯৬৫ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

এ দিকে উল্লাসকর দত্তের জন্মদিনে সরাইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সরকারের ৩টি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে উল্লাসকর দত্তের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সরাইলের কালিকচ্ছে তাঁর পৈত্রিক ভিটিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান, তাঁর কর্মকান্ডকে লিপিবদ্ধ করে একটি কক্ষে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা এবং প্রতিবছর তাঁর জন্ম দিনে আলোচনা সভার আয়োজন করা।
এ ব্যাপারে সরাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বাবুল বলেন, আজকের প্রজন্ম বিপ্লবী উল্লাস কর দত্তকে খুব একটা জানে না। নতুন প্রজন্ম যাতে উল্লাস কর দত্তকে জানতে পারে সেজন্য সরাইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিনটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের ১৩৭তম জন্মদিন পালিত, সরাইল প্রেসক্লাবের তিন প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে যোগদান করেছেন হালিমা খাতুন। গতকাল রোববার সকালে তিনি নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রথমদিন অফিস করেন।

প্রথমদিন কার্যদিবসে উপজেলার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি সকলের  সহযোগিতা কামনা করেন। এর আগে হালিমা খাতুন মঙ্গলবার  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন এবং বৃহস্পতিবার নাসিরনগরে যোগদান করেন।

এর আগে তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৪ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে হালিমা খাতুনকে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে পদায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য, নাসিরনগর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি হয়েছেন।

নাসিরনগরে নতুন ইউএনও হিসেবে হালিমা খাতুনের যোগদান

স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নতুন কমিটি ঘোষনার মাত্র দুই সপ্তাহ পর (১৪ দিন) উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সভায় সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির দৃশ্যমান কোন কার্যকারিতা না থাকায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেই সাথে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণের মাধ্যমে বিলুপ্ত ইউনিটের নতুন আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ২১ সদস্য বিশিষ্ট সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেত্রী বেবী ইয়াছমিনের ছেলে রিফাত বিন জিয়াকে আহবায়ক, মোঃ আমান উল্লাহকে সদস্য সচিব করা হয়।

রিফাত আওয়ামীলীগ নেত্রীর ছেলে, অছাত্র, নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী ও বিবাহিত এবং সদস্য সচিব মোঃ আমান উল্লাহ এলাকায় থাকেন না এবং তিনি আদম ব্যবসায়ী এই অভিযোগ তুলে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে ছাত্রদলের একাংশের নেতা-কর্মীরা।
পরে ঘোষিত ২১ সদস্য কমিটির ১৪ জন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরী তাদের পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রকে নিশ্চিত করলে গত মঙ্গলবার ঘোষিত কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে ছাত্রদলের সাংগঠনিক টিমের কুমিল্লা বিভাগীয় প্রধান মোঃ জাকির হোসেন সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার সাথে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিভিন্ন কারনে এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
###

নতুন কমিটির ঘোষনার মাত্র ১৪ দিন পর সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত

উৎসাহ উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪১ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে । এ উপলক্ষে শনিবার সকালে ভাসানী চর্চা কেন্দ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

ভাসানী চর্চা কেন্দ্রের সংগঠক সাংবাদিক আবদুন নূর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহাম্মদ তফছির, জেলা জাসদ সভাপতি যুদ্ধকালীন কমান্ডার অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন সাঈদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খান, জেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর রেজা মোঃ শাহজাদ, জেলা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতির সভাপতি হাজী আবদস সোবহান মাখন, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য আবুল খায়ের, জেলা যুবমৈত্রীর সদস্য সচিব ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ,জেলা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন ভাসানী চর্চা কেন্দ্রের সংগঠক ও তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ নাসির ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,মওলানা ভাসানী ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস অপূর্ণাঙ্গ, ইতিহাসে যার যেটুকু প্রাপ্য তা তাকে দিতেই হবে ।সকল প্রকার দেশীয় শোষণ নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী ছিলেন আজীবন আপোষহীন । বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে ভাসানী সবসময়ই পথের দিশারী । বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ’৭২ এর সংবিধানে সন্নেবেশিত চার মূলনীতি অনুযায়ী রাস্ট্র পরিচালিত হলে মৌলবাদী গোষ্ঠী এ ধরণের আস্ফালন দেখাতে সাহস পেতনা । কোন প্রকার আপসকামীতা নয় সংবিধান থেকে রাস্ট্র ধর্ম বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনার জন্য ৭২ এর সংবিধান পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সরকারে প্রতি দাবি জানানো হয় ।

বক্তারা মওলানা ভাসানী থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রাণ প্রকৃতি তথা জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং সা¤্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই সংগ্রামের আহবান জানান। সভা থেকে বন্ধ ঘোষিত পাটকলগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুণরায় চালু করার জন্য দাবি জানানো হয় এবং রাস্ট্রায়ত্ব চিনিকলগুলো ব্যক্তি মালিকানায় না ছাড়াও দাবি জানানো হয় ।

সরাইলের শাহবাজ পুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা দীলিপ নাগের দুটি ঘর রাতের আধাঁরে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীর ছেলে প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারে প্রতি দাবি জানানো হয় ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪১ তম জন্মদিন পালিত

জাবেদ রহিম বিজন/নিজস্ব প্রতিবেদক:দৈনিক মানবজমিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ‘বি,বাড়িয়া’ এবং ‘বলদ বাড়িয়া’ বলে কটাক্ষ করায়  চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বাদী হওয়া এই মামলার এজহার জমা দেয়া হয়। ডা. তুষারের ফেসবুকে দেয়া ওই পোস্ট শেয়ারকারী ৩ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়।

 

মামলার এজহারে বলা হয়, গত ২০শে এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টায় ডা. আব্দুন নূর তুষার তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট দেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন ‘আজ ২০-০৪-২০২০ ইং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়ায় করোনা ভাইরাস কোভিড- ১৯ পরীক্ষার আরটি পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। সামাজিক দূরত্বের নমুনা দেখুন। পুরো দেশটাই বি-বাড়িয়া বলদ বাড়িয়া’। এজাহারে বলা হয় ডা. তুষার কোনো কারণ ব্যাতিত এবং অনুল্লেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে বি-বাড়িয়া মর্মে বিকৃত উচ্চারণে উপস্থাপন করে আইন ভঙ্গ করেছেন। ২০১১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন প্রজ্ঞাপন দ্বারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ বি-বাড়িয়াকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য ঘোষনা করেছে উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয় তার এই নেতিবাচক উপস্থাপনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ৩২ লাখ মানুষের মনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা উস্কে দিয়েছে।

এই পোস্ট দিয়ে যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তানদের বিবাদ ও কলহের সম্মুখীন হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন ডা. তুষার। রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, আসামিদের এই অপকর্মে সমগ্র জেলাবাসীর মতো আমিও অপমানিত ও মর্মাহত হয়েছি। বলদ বাড়িয়া বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩২ লাখ মানুষকে অপমান করা হয়েছে।এর মাধ্যমে অন্য জেলার মানুষের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে।

এরআগে বিশিষ্ট সাংবাদিক জ.ই মামুন তার ফেসবুক পোষ্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে মন্তব্য করলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোষ্ট দেন। ১৮ই এপ্রিল মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আনসারীর নামাজে জানাযায় লাখো লোকের সমাগমের পর তিনি পোষ্ট দেন- ‘এখন কাউকে গালি দিতে ইচ্ছে করলে বলা যাবে-তুই একটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বি,বাড়িয়া’ এবং ‘বলদ বাড়িয়া’ বলে কটাক্ষ করায় ডা. তুষারের বিরুদ্ধে মামলা

 

সোহেল আহাদ:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে মন্তব্য করায় সাংবাদিক জ.ই.মামুনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করায় এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক জ.ই. মামুনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সুজন দত্ত।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জর্জ কোর্টে এডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ স্বপনের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সুজন দত্ত এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার (১৮এপ্রিল) বিকাল ৪টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক জ.ই.মামুন নামীয় তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন “এখন কাউকে গালি দিতে ইচ্ছা করলে বলা যাবে-তুই একটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া“ যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩২ লক্ষ মানুষের মনে আঘাত লেগেছে। এমন স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠে।

এরই প্রতিবাদ সরূপ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিক জ.ই. মামুনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১০দিনের মধ্যে উক্ত পোস্ট প্রত্যাহারসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩২ লক্ষ মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে এবং জেলার ৬জন সংসদ মহোদয়ের সাথে স্বাক্ষাতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহবান করেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এর সকল দায় তারই বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

১৯.০৪.২০২০

নজরুল ইসলাম তোফা:
অর্থ বা সম্পদ মানব জীবনের জন্যে অপরিহার্য হলেও অর্থ কিংবা সম্পদের যথাযোগ্য ব্যবহার নাহলে তা যেন ব্যক্তি এবং সমাজ জীবনে নেমে আসে অকল্যাণ। জানা কথা হলো, সুশীল সমাজ গঠনে প্রয়াসী মানুষ ব্যক্তি ও সমাজজীবনের বৃহত্তর কল্যাণ ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার করার জন্যই গড়ে তুলা হয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় অনুশাসন এবং অনুকরণীয় ন্যায়-নীতি’। কিন্তু সমাজ জীবনে এমন কিছু লোক থাকে যারা এসব অনুশাসন কিংবা ন্যায়নীতি মান্য করেনা। তারা অন্যকে উৎপীড়ন করে, অন্যের অধিকারেও যেন তারাই অন্যায় হস্তক্ষেপ করে, তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে যেন সামাজিক শৃঙ্খলাকে নস্যাৎ করে, সামাজিক স্বার্থ বিরোধী অন্যায় কিংবা অবৈধ কর্মতৎপরতায় লিপ্ত হয়। এরাই সমাজের চোখে অন্যায়কারী ও আইনের চোখেও অপরাধী বলেই বিবেচিত হয়। এদের অপরাধ অবশ্যই দণ্ডনীয়। সুতরাং, বিবেকবান মানুষকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই বিবেক বান মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার চেতনাতেই নানা বাঁধার সম্মুখীন করে থাকে, ‘নীতিকথা’ যদি তুলেই ধরি তাহলে বিবেকবান মানুষ হিসেবে অন্যায়কে দিনের পর দিন সহ্য করা ঠিক নয়। আবার বলা যায় যে, এমন অন্যায় সহ্যকারীরাও ঠিক সরাসরি অন্যায় না করলেও অন্যায়কে সহযোগিতা এবং সমর্থন করা কোনো ভাবেই ঠিক হবেনা। কিন্তু দেশের যা পরিস্থিতি কি করবে তারা, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই সমাজের ভালো মানুষ প্রতিবাদ করতে যে ভয় পায়। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, প্রতিবাদ করলে ভালো মানুষেরা ঠিক ফেঁসে যায়। বস্তুত অন্যায় প্রবণ মানুষদের সংখ্যা কম হলেও সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষেরা অন্যায়ের প্রতিবাদে যেন বিপদ-ঝুঁকি নীরবেই সহ্য করে থাকে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এখন আতঙ্কিত বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব। এই চরম ক্রান্তিকালে এইদেশে হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যের জন্য হাত পাতছে তাদেরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে। থমকে গেছে তাদের  অর্থনৈতিক কাজ-কর্ম, থমকে গেছে জীবনযাত্রা। এখন  চারিদিকে শুধুমাত্র মৃত্যুর মিছিল ও নিত্যদিনেই অসহায় মানুষের খাদ্য সংগ্রহের নানা দুঃসংবাদ। এ “বাংলাদেশে অদৃশ্য করোনাভাইরাস” যে তাণ্ডব চালাচ্ছে, সেইটাকেই সামাল দিতে পৃথিবীর উন্নত ও মহাশক্তিধর দেশগুলোও হাবুডুবু খাচ্ছে। স্বভাবতই এমন প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছে না বাংলাদেশও। ক্রমাগতই বাড়ছে যে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বাড়ছে বেকারত্ব কিংবা মানুষের ক্ষুধা। মুখ থুবড়ে পড়েছে এইদেশের অর্থনীতি।
এরি মধ্যে সরকার বিরোধী একটি চক্র না কি হতদরিদ্র মানুষকে উসকে দিয়ে এই সরকারকে বিপাকে ফেলছে।
সরকার গরিব-অসহায় মানুষদের জন্যে সাহায্যে দিচ্ছে না তা নয়। কিন্তু শোনাও যাচ্ছে, এক শ্রেণীর মানুষ তারা এ সংকট মুহূর্তে অসৎ উপায়েই গরীব-অসহায়দের নাম ভাঙিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। বর্তমানের এই সরকার গরীব- অসহায়দের নানা ভাবে খাদ্য সংকটের মোকাবিলা করা সত্ত্বেও সরকারের জনপ্রতিনিধিরাই যে চাল সহ অন্যান্য কিছু চুরি করছে। কি নিষ্ঠুর এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। শুনাও যাচ্ছে, এই গরিব অসহায় মানুষরা খাদ্যের জন্যে প্রতিবাদ করলে সে সকল প্রতিনিধিরা তাদের মারছে ও মানসিক আঘাত করছে। সরকারের উচিত হবে খুবদ্রুত তাদেরকে চরম শাস্তি দেওয়া। তারা এই দেশের সাধারণ মানুষদের ভোটে- কখনই নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না। এ সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও খুব দ্রুত  এগিয়ে আসা উচিত। এখনই সময় মানবতা প্রদর্শনের।
সুতরাং যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে খুব শক্ত হয়ে। হতদরিদ্র মানুষের নিত্যদিনের জন্যে সাধারণ খাবারের অধিকার রয়েছে। আমাদের ভাবনায়  শুরুর মাত্র একমাস না যেতেই ক্ষুধার নতুন রাজ্যে যেন প্রবেশ করছে মানুষ। আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশটার কোনো মানুষ না খেয়ে না মরে সেই লক্ষে সর্ব প্রথম এই সরকারকেই ভাবতে হবে। সম্মিলিত ভাবেই চেষ্টা করতে হবে, যাঁরা পারবে তাঁরাও গরিব অসহায় মানুষের জন্যে  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। অসহায় মানুষের ইচ্ছা এবং সামর্থ থাকলেও এই ভাইরাসের স্বাস্থ্য-ঝুকির কারনে সবার দরজায় গিয়ে সাহায্য চাওয়া বেশ কঠিন। তাই অনলাইনেও তো পারি মিলিত হয়ে সাহায্য করতে। আপনার অংশগ্রহণ যত সামান্যই হোক না কেন বিশ্বাস নিয়েই পাঠানো চেষ্টা করা উচিত। অন্তত একটি ঠিকানা আছে এখানে দেওয়া যেতেই পারে। যোগাযোগ ঠিকানা –simullovetv24@gmail.com আর তাঁদের, Bkash – 01794178063
বর্তমান সরকার সকল সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনটা কেটে নিয়ে হতদরিদ্র মানুষদের সাহায্যের জন্যে একটি মহৎ কাজ করছে। কিন্তু সকল শ্রেণী পেশার মানুষের এ সরকার সাহায্যের জন্য কোনো আবেদন করতে পারছে না। তাই উচিত হবে, সকল পেশার সামর্থযোগ্য মানুষের এই দেশের গরিব অসহায় মানুষদের জন্য সাহায্য করা। পরিশেষে আবারও বলতেই হচ্ছে অন্যায় স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্থকে কোনো মহল বা শ্রেণীর অসৎ মানুষ টোপ হিসেবে কাজে লাগায়। এরাই হীন চরিত্রে মানুষ, সম্পদ হোক বা খাদ্য কিংবা অর্থই হোক লোভের জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। ঠিক এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে তা ঘটছে। এদের ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা, নীতি-আদর্শটা লোপ পায়। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও সীমাহীন দুর্নীতি  করার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হলেই যেন উদগ্র অর্থলালসা এবং  অসহায় গরিবদের দেওয়া সামান্য খাদ্যদ্রব্য গুলোকেও  হাত ছাড়া করতেই চায় না। অন্যায় পথে অর্জিত কোনো কিছুই সেই মানুষকে বিবেকহীন ও দাম্ভিক করে তোলে। এক শ্রেণীর মানুষ শুধুই সুযোগ খোঁজে কখন তার সময় আসে চুরি করার বা আত্মসাৎ করার উপযুক্ত সময়। এ ভাবেই সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে, ধনী-দারিদ্র্যের বৈষম্য। গরিব মানুষের খুব সাধারণ খাদ্য দ্রব্যটাকে যারা এমন দুর্দিনে চুরির ইচ্ছা পোষণ করে তারা এক কথায় বলতে গেলেই বলা যায় বিবেকহীন পশুরূপী শয়তান।
লেখক:
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

সরকারের লকডাউনে জনপ্রতিনিধিরাই দরিদ্র মানুষের খাদ্য ভোগ করছে

ফেসবুকে আমরা..