ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাথার খুলিবিহীন কন্যা শিশুর জন্ম লাভ


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্রপচার ছাড়াই এক প্রসূতি মা মস্তিকবিহীন (মাথার খুলি ও মগজ ছাড়া) একটি কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছেন। গত সোমবার বিকেল ৫টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এই শিশুটি জন্ম নেয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশুটি জীবিত ও তার মা সুস্থ্য আছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার বলেন, এই ধরনের শিশু জন্মগতভাবে ত্রুটি নিয়েই জন্ম গ্রহণ করেন। এই ধরণের শিশুর মাথার খুলি ও মগজ থাকে না। এই ধরনের শিশুকে এনেনসেফালি বা মস্তিষ্কবিহীন শিশু বলে। এই ধরনের শিশুকে বাঁচানো ইতিহাস নেই। শিশুটিকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে তবে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশুটির অভিভাবক তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়নি।
হাসপাতাল ও নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগরের শহীদ মিয়ার মেয়ে তানজিনা বেগমের সাথে গত দুই বছর আগে একই উপজেলার ভলাকূট ইউনিয়নের ভলাকুট গ্রামের সফিল উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয়। প্রায় ১ বছর আগে তানজিনা অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন গাইনি চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তানজিনা যখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন গাইনি চিকিৎসক তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন। তখন তাকে জানানো হয় যে, গর্ভে থাকা শিশুটি জন্মের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হবে এবং তার মাথার খুলি হবেনা। কিন্তু চিকিৎসকের সেই কথা তানজিনার শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিশ্বাস করেননি। গত সোমবার দুপুরে তানজিনার প্রসবজনিত ব্যাথা উঠে। পরিবারের লোকজন তাকে দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বিকেল পাঁচটার দিকে গাইনি বিভাগের মাহফিদা আক্তারের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিকভাবে তানজিনা মস্তিষ্ক বিহীন কন্যা শিশুটি জন্ম দেন।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার বলেন, তানজিনা আট মাসের অন্তঃসত্ত্ব ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিশুগুলো সচরাচর ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টা বেঁচে থাকে। শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে শিশুটিকে এতোদিন গর্ভে রেখে এতদূর আনার কোনো দরকার ছিল না। আমাদের কাছে আসলে ১৪ সপ্তাহ গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে তানজিনার একটা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে শিশুটির অবস্থা জানতে পারতাম। তখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়া যেত। তিনি বলেন, ‘শিশুটির এই জন্মগত ত্রুটি বা বিকলাঙ্গের অন্যতম কারণ হলো ফলিক অ্যাসিডের অভাব। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আগে থেকেই মায়েদের ফলিক অ্যাসিডের বড়ি খাওয়া শুরু করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেনের সাথে মঙ্গলবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিশুটিকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে তবে শিশুটিকে তার অভিভাবকরা ঢাকায় নিয়ে যায়নি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশুটি জীবিত আছে। তিনি বলেন, এ ধরনের শিশু ১/২ দিনের বেশী বাঁচেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা..