স্ত্রী হত্যার অভিযোগে অষ্টগ্রাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা দায়ের

botvনিউজ:

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক কুমার দেব সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১- বুধবার সকালে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞ বিচারক বেগম মাফরুজা পারভীন অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক তথ্য বিবরনী (এফআইআর) নথিভুক্ত করার জন্য নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এদিকে এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
দায়েরকৃত মামলার আরজিতে মামলার বাদি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের দত্তপাড়ার মৃত তুলসী রঞ্জন দেবের ছেলে চপল দেব অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে মামলার প্রধান আসামী অস্টগ্রামের মৃত দুর্গা মোহন দেবের ছেলে মানিক কুমার দেবের সাথে তার বড় বোন লিপি দেবের বিয়ে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মানিক দেব ও বাড়িতে থাকা তার চার বোন যৌতুকের জন্য লিপিকে প্রায়ই মারধোর করতেন।

ঘটনার জ্জ দিন আগেও আসামী মানিক তার মোবাইলে (০১৭১২-২৬০২০৯) বাদীর বড় ভাই চন্দন কুমার দেবের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। অন্যায় দাবি থেকে বিরত থেকে সুন্দরভাবে ঘর-সংসার করার জন্য চন্দন দেব মানিককে পরামর্শ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ফোন কেটে দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ১৫ ফেব্রয়ারি বিকেল আনুমানিক ৩টায় ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আসামী মানিক ও তার বোনেরা মিলে লিপিকে বেধরক মারধোর ও শ্বাসরোধ করে মুমুর্ষ অবস্থায় তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়।

এ অবস্থায় মানিক মোবাইলে লিপির বড় ভাই চন্দন দেবকে জানান, লিপি অসুস্থ তাকে স্পীডবোডে লোক মারফত নাসিরনগরে পাঠানো হচ্ছে। মোবাইলে খবর পেয়ে লিপির উদ্বিগ্ন স্বজনরা মাইক্রোবাস নিয়ে নাসিরনগর ডাকবাংলো ঘাটে অপেক্ষা করতে থাকে। মুমুর্ষ লিপিকে সন্ধ্যা ৭টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি লিপির সুরতহাল রিপোর্ট সমপন্ন হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাঈদা খানমের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হয়। সুরতহাল রিপোর্টে লিপির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিপির লাশ সমাধিস্ত করা হয়।

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদি অস্টগ্রাম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে নাসিরনগর থানাও রহস্যজনক কারনে মামলা নেয়নি। তাই বাদি গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১- এ এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার অপর আসামীরা হলেন, রানু রানী দেব, শিউলী রানী দেব, ঝুনু রানী দেব এবং মানিকের ঘনিষ্টজন নারায়ন চন্দ্র সরকার ও নিরঞ্জন দেব।
প্রসঙ্গত নারায়ন চন্দ্র সরকার ও নিরঞ্জন দেব মুমুর্ষ অবস্থায় লিপিকে স্পীডবোডে নাসিরনগর নিয়ে এসেছিলেন।

এ ব্যাপারে মামলার প্রধান প্রধান আসামী ও অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মানিক চন্দ্র দেবের সাথে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা শিকদার দীনা বলেন, ভিকটিমের পক্ষ দুর্বল থাকায় সাধারণত থানা মামলা নিতে চায়না। আইনের দৃষ্টিতে যেন সবাই সমান অধিকার পায়। তিনি আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা দীলিপ নাগ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা..