স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তান্ডবকালে শহরজুড়ে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে হেফাজত নেতাদের মিথ্যাচার ও কটুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে আওয়ামী লীগ।
আজ বেলা ১১টায় সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মাছিহাতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল হাসান লিটনের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান ভূইয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক এম.এ.এইচ মাহবুব আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক পরশ চৌধুরী, সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি কামাল ভূইয়া, ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সেলিম আহমেদ চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরী, সমাজসেবক মনির ঠাকুর, ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়।

এসময় হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পৌরসভা কার্যালয়, সুর স¤্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সুর স¤্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, মাতৃ সদন, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাসভবন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরালসহ তিনটি ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই চত্বরে থাকা শহর সমাজসেবা প্রকল্পের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, পৌর মেয়রের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, হাইওয়ে থানা ভবন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্যাম্পাস, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে।

বক্তারা এসব হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত হেফাজত নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

পাশাপাশি বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে হেফাজত নেতাদের মিথ্যাচার ও কুটুক্তি প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাছিহাতায় আওয়ামী লীগের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দুরাই স্বামী বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময়ই একটি বিশেষ সম্পর্ক। করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ একটি খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যেও ভারত- বাংলাদেশ দু’দেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভারত থেকে চারদিনের ছুটি কাটিয়ে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার পথে আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
এ সময় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দুরাইস্বামী আরো বলেন, সারা বিশ্বেই ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। সরবরাহের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি রয়েছে। সবাই কাজ করছে কীভাবে ভ্যাকসিনের প্রাপ্ত্যতা নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যাপারে আমরা সাধ্যমত কাজ করছি।

তিনি বলেন, এই মূহুর্তে ভারতে নিজেদের ভ্যাকসিন সংকটে আছে। উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। শীঘ্রই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ভারতে থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি টিকা পেয়েছে। অন্য কোন দেশ তা পায়নি। চুক্তি অনুযায়ী ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাকী টিকাগুলো ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে। এ সময় তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা দুরাইস্বামী সাথে ছিলেন।

এর আগে বিক্রম দুরাই স্বামী দিল্লি থেকে বিমান যোগে আগরতলা এসে পৌছান। আখাউড়া স্থল বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর-এ-আলম, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে তিনি সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। গত ১৮ মার্চ আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে তিনি দিল্লী গিয়েছিলেন।

আখাউড়া স্থলবন্দরে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দুরাই স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া একশত পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ফারুকী পার্কে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, ১ কেজি তেল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী।
খাদ্য বিতরণকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়–য়া, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এবিএম মশিউজ্জামান, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামিসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮শ ২২ টি পরিবারকে পরিবার প্রতি ৪৫০ টাকা হারে দেয়ার জন্য ৬ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পাশাপাশি জি আর সহায়তা এসেছে মোট ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের সনাক্ত করে সরকারি সহায়তা পৌছে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা সংকটে কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান


গত ২৬, ২৭ ও ২৮ শে মার্চ-২০২১খ্রিঃ হেফাজত ইসলাম কর্তৃক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও তান্ডবলীলা চালায়। সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরীতে পরিনত করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ শে মার্চ-২০২১খ্রিঃ হেফাজত
ইসলাম কর্তৃক বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতাল চলাকালে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের তান্ডবে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ০৮ জন হেফাজত কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উক্ত সহিংস ঘটনাসমূহের প্রাপ্ত স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের সনাক্ত করা হয়। উল্লেখ্য হেফাজতের তান্ডবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯ টি, আশুগঞ্জ থানায় ০৪ টি ও সরাইল থানায় ০২ টিসহ সর্বমোট ৫৫টি মামলা রুজু হয়েছে। এসকল মামলায় ৪১৪ জন এজাহারনামীয় আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ হাজার লোকের নামে মামলা হয়েছে। এসকল মামলায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বমোট ৩৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তান্ডবে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে জড়িত আরও০৮ জন গ্রেফতার

গতকাল ২১ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখ আনুমানিক সকাল ০৬.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩, ভৈরব ক্যাম্প, কিশোরগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন গঙ্গানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি হলেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪০),  পিতা-মোঃ ফিরোজ মিয়া,  থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

এসময় ধৃত আসামীদর নিকট হতে ৬২৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার গঙ্গানগর এলাকা থেকে ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করছেে র‌্যাব-১৪

ফেসবুকে আমরা..