সুমন আহম্মেদঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর সভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তাকজিল খলিফা কাজলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক মানবজমিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক জাবেদ রহিম বিজনকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে সাংবাদিক জাবেদ রহিম বিজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এই জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয় হুমকি পেয়ে তিনি (বিজন) চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে রয়েছেন।

গত ২৫ অক্টোবর মানবজমিন পত্রিকায় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগ নেতা তাকজিল খলিফা কাজলকে নিয়ে “আখাউড়ায় খলিফা সাম্রাজ্য” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পরপর ফেসবুকে সাংবাদিক বিজনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

সাংবাদিক বিজনের দায়েরকৃত জিডিতে বলা হয়, “কাজল ভাইয়ের সমর্থক” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ২৬ অক্টোবর রাতের কোন এক সময়ে ‘বিজনের হাতের দাম- ১০০০০০০০/, পা- ৫০০০০০০, হত্যা মামলাসহ দেয়াহবে ১৫০০০০০০’ লিখে একটি পোস্ট দেয়া হয়। এছাড়াও ‘বিজনকে যেখানে পাবে-তাকে সাইজ যে করতে পারবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে’ ইত্যাদি পোস্ট দেয়া হয়।

বিষয়টি জানার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের আইটি কক্ষের কম্পিউটারে বিজনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা হত্যার হুমকি দেয়ার পোস্টগুলো দেখতে পান। হুমকিদাতারা মেয়র কাজলের আত্মীয় ও রাজনৈতিক সহচর বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, হত্যার হুমকির বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ফেইক আইডি থেকে কাউকে দিয়ে এটি করানো হয়েছে। ওই আইডির বিরুদ্ধে গত রোববার দুপুরে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন নয়ন আখাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়টি সাবেক সংসদ সদস্য ও তাঁর অনুসারিরা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছেন না। তাই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ করানো, ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচার একই সূত্রে গাঁথা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
###

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় থানায় জিডি

সুমন আহম্মেদঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সোমবার বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে দাঙ্গা বিরোধী শপথ নেয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাবাজরা। হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে। গত সোমবার রাতে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে আসামী পক্ষটি হামলা ভাঙচুরের ‘নাটক’ সাজাতে পারে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর রাজাপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোঃ আবদুল কাদিরের ছেলে মোঃ আবদুল্লাহ মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ গত ২৫ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজাপুর গ্রামের চকবাজারে সাফিল মিয়ার সাথে তার প্রতিবেশি মনির মিয়ার বাগবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে সাফিল মিয়ার বাড়িতে হামলা হয়।

এতে আহত হন আবদুল্লাহ মিয়া। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর হাসপাতালে ও পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আব্দুল্লাহ মিয়ার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।

এ অবস্থায় গত সোমবার বিকেলে ওই গ্রামে দাঙ্গা বিরোধী সমাবেশের ডাক দেয় সরাইল থানা পুলিশ। এতে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সবাইকে হাত উঁচিয়ে দাঙ্গায় না জড়ানোর শপথ করানো হয়।

‘হে সৃষ্টিকর্তা আমরা আপনাকে সাক্ষী রেখে শপথ করেতেছি যে, আমরা আজ থেকে কোনো মারামারি, দাঙ্গাহাঙ্গামায় লিপ্ত হবো না। নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ হলে নিজেরা মীমাংসা করে নিবো। না হলে প্রশাসনের শরনাপন্ন হবো। আজ থেকে কোনো দিন অস্ত্র হাতে তুলে নিবো না। হে সৃষ্টিকর্তা আপনি আমার শপথ কবুল করুন। আমিন’। এই বলে শপথ নেন গ্রামবাসী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গ্রামের লোকজন কিছু দেশীয় অস্ত্রও জমা দেন। সমাবেশ শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আসামী পক্ষের পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে হামলা, লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সোমবার সমাবেশ শেষ করার পরই কয়েকটি বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, ‘ওই এলাকায় আমরা সমাবেশ করেছি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশ ওই গ্রামে যাওয়া-আসা করছে। তবে হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা সাজানো হতে পারে।
###

সরাইলে বিকেলে পুলিশের সাথে দাঙ্গা বিরোধী শপথ রাতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর!

ফেসবুকে আমরা..